Advice to Amirul Mu’mineen

ইবনে আবী শোমায়লা ছিলেন একজন প্রখ্যাত পন্ডিত ও সাহিত্যিক। একবার খলীফা মালেক ইবনে মারওয়ানের নিকট গেলে খলীফা তাহাকে কিছু বলার অনুরোধ করিলেন। শোমায়ল বলিলেন, আমি কি বলিব! আপনি তো জানেন যে, আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি ব্যতীত আর যাহা কিছুই বলা হইবে উহাই বক্তার জন্য অকল্যাণ ডাকিয়া আনিবে এবং এই কারণে তাহাকে জবাবদিহিও করিতে হইবে।

এই কথা শুনিয়া খলীফা কাঁদিতে লাগিলেন । কিছুক্ষণ পর তিনি বলিলেন, আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন, মানুষ তো সদাসর্বদা একে অপরকে নসীহত করিয়া আসিতেছে (সুতরাং আপনিও আমাকে নসীহত করুন।)

এইবার শোমায়েল বলিলেন, হে আমীরুল মোমেনীন! আমার একটি কথা স্মরণ রাখিবেন; কেয়ামতের অশান্তি ও তিক্ততা হইতে এমন লোকেরাই মুক্তি পাইবে, যাহারা নিজের নফস্‌কে অসন্তুষ্ট করিয়া আল্লাহকে সন্তুষ্ট করিয়াছে। খলীফা আব্দুল মালেক পূর্বাধিক ক্রন্দন করিতে করিতে বলিলেন, আপনার এই মূল্যবান নসীহত আমার সারা জীবন স্মরণ থাকিবে ।

Posted in Uncategorized | Leave a comment

Reality of Progress

প্রগতির হাকীকত

আজকাল প্রগতি বলিতে যাহা বুঝানো হয় উহা আসলে স্বার্থপরতা ও উচ্চাকাঙ্খার নামান্তর। শরীয়তের কথা বাদ দিলেও এগুলি তো এমনিতেই নিন্দনীয়। এইগুলিকে প্রগতির মতো একঢি সুন্দর নাম দিলেই কি উহা ভালো হইয়া যাইবে? প্রগতির হাকীকত কি তাহা সর্বাগ্রে জানা প্রয়োজন । প্রগতির হাকীকত উহাই যাহার অনুমতি শরীয়ত দিয়াছে অর্থাৎ হালাল পথে অগ্রসর হওয়া । অর্থাৎ জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন বা প্রগতি যাহাই বলি না কেন শরীয়ত উহার একটি সীমা নির্দিষ্ট করিয়া দিয়াছে। প্রগতির নামে শরীয়তের সীমা লংঘন কলা যাইতে পারে না । সুতরাং শরীয়ত অননুমোদিত যাবতীয় পন্হা ও পদ্ধতি আমাদিগকে বর্জন করিয়া চলিতে হইবে । অনেকে এখানে প্রশ্ন তোলেন যে, শরীয়ত আমাদের জীবনযাত্রাকে সীমিত করিয়া দিয়াছে। আমি তাহাদিগকে বলিতে চাহি যে, পৃথিবীর সব দেশেই জনগণের জীবনযাত্রার একটি সীমা বাঁধিয়া দেওয়া হয় । কোন দেশেই স্বাধীনতার নামে বল্গাহীন জীবনযাত্রার বা যাহা খুশী তাহাই করার অনুমতি দেওয়া হয় না । কোন সরকার কি এই অনুমতি দিবে যে, আপনি চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি বা লুটপাট করিয়া যেভাবে পারেন নিজের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করুন? নিশ্চয়ই না । সরকার কর্তৃক আরোপিত সীমা মানিয়া চলিতে আমাদের কোনই আপত্তি নাই। আর যত আপত্তি শুধু আল্লাহ্ কর্তৃক আরোপিত প্রগতির সীমা মানিয়া চলিতে?

Posted in Uncategorized | Leave a comment

Remembering and Forgetting Death

মৃত্যুর স্মরণ রাখা এবং না রাখার ফল।
হামেদ আল লেফাফ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করে, তাহাকে তিনটি বিষয়ে সম্মানিত করা হয়।
(১) অতি তাড়াতাড়ি তাহার তওবা করার সুযোগ হয়।
(২) যাহা আল্লাহ দান করেন, উহার উপর সন্তুষ্ট থাকা নসীব হয়।
(৩) ইবাদতে একনিষ্ঠতা হাসিল হয়।

পক্ষান্তরে যেই ব্যক্তি মৃত্যুকে ভুলিয়া যায় তাহাকে তিনটি বিষয়ের দ্বারা শাস্তি প্রদান করা হয় ।
(১) তাহার তাড়াতাড়ি তওবার সুযোগ হয় না ।
(২) যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদের উপরও সন্তুষ্ট থাকা নসীব হয় না
(৩) ইবাদতে অলসতার সৃষ্টি হয় ।

Posted in Uncategorized | Leave a comment

Reward of backbiting

গীবতের বিনিময়ে উপহার

জনৈক ব্যক্তি হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে বলিল–অমুক ব্যক্তি- আপনার গীবত করিয়াছে। এই কথা শুনিয়া হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি গীবতকারীর প্রতি টাটকা খেজুর ভর্তি একটি ঝুড়ি প্রেরণ করিলেন এবং বলিয়া দিলেন যে, জানিতে পারিলাম আপনি নাকি স্বীয় নেকী সমূহ আমাকে দান করিয়া দিয়াছেন। উহার বিনিময়ে আপনার খেদমতে এই সামান্যতম হাদিয়া দিলাম। পূর্ণ বিনিময় দেওয়া সম্ভব নহে তাই ক্ষমা করিবেন ।

Posted in Uncategorized | Leave a comment

Reward of reptenter

তওবাকারীকে আল্লাহ্ পাক চার প্রকারে সম্মান করেন-

(১) তওবাকারীকে পাপ থেকে এইভাবে পবিত্র করেন যেন, সে কখনও পাপ করেই নাই।
(২) আল্লাহ্ পাক তওবাকারীকে ভালবাসিতে থাকেন
(৩) শয়তান থেকে তাহাকে হেফাজতে রাখেন ।
(৪) দুনিযা পরিত্যাগ করাব পূর্বে (অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বে) তাহাকে নির্ভয় এবং নিশ্চিত করিয়া দেন।

Posted in Uncategorized | Leave a comment

Story of Cat

কথিত আছে যে, এক বুজুর্গ একটি বিড়াল পালিতেন । বিড়ালটির জন্য তিনি প্রতিদিন এক কসাইর দোকান হইতে গোশতের হাড়-পর্দা ইত্যাদি সংগ্রহ করিয়া আনিতেন। এক দিন বুজুর্গ সেই দোকানে গিয়া দেখিতে পাইলেন, কসাই একটি অন্যায় কাজ করিতেছে। এই দৃশ্য দেখিয়া তিনি বিড়ালের জন্য খাবার না লইয়াই বাড়ী ফিরিয়া আসিলেন । অতঃপর তিনি বিড়ালটিকে বাড়ী হইতে বাহির করিয়া দিয়া পূনরায় কসাইর দোকানে আসিয়া তাহাকে অন্যায় কাজ করিতে নিষেধ করিলেন । কসাই বুজুর্গের প্রতি বিরক্ত হইয়া বলিল, আর কোন দিন আপনার বিড়ালের জন্য আমি খাবার দিব না । বুজুর্গ সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলেন তাহাতে কি হইয়াছে? বিড়ালটিকে ঘর হইতে বাহির করিয়া দিবার পরই আমি তোমাকে নিষেধ করিতে আসিয়াছি। এখন তোমার নিকট আমি কিছুই পাওয়ার আশা করি না । বস্তুতঃ যেই ব্যক্তি মানুষের নিকট হইতে কিছু পাওয়ার আশা ত্যাগ করিতে পারিবে না, তাহার পক্ষে মানুষকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা সম্ভব হয় না। অনুরূপভাবে যেই ব্যক্তি সকলের নিকট ভাল থাকিতে চাহে এবং এইরূপ কামনা করে যে, মানুষ যেন সর্বদা আমার প্রশংসা করে, সেই ব্যক্তির পক্ষেও মানুষকে অন্যায় কাজে বাঁধা দেওয়া সম্ভব হয় না ।

Posted in Uncategorized | Leave a comment

Who is the Strongest?

হযরত মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোথাও যাইতেছিলেন। রাস্তার মধ্যে কয়েকজন লোক একটি ভারী পাথর উত্তোলন করিয়া নিজের শক্তির পরীক্ষা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতেছিল। ইহা দেখিয়া রাসূলুল্লাহু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলিলেন-এই পাথর অপেক্ষাও- অধিক ভারী একটি জিনিস রহিয়াছে যাহা দ্বারা প্রকৃত পক্ষে শক্তির পরীক্ষা হয় । লোকজন জিজ্ঞাসা করিল, ইহা কি? রাসূলুল্লাহু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলিলেন- যেমন দুই ব্যক্তির মধ্যে কোন কিছু লইয়া শক্রতা ও দুশমনী পয়দা হইল । আর শয়তান উভয়ের উপর প্রভাব বিস্তার করিল। এমতাবস্হায় এক ব্যক্তি (পার্থিব অপমান ও অপদস্হতার পরওয়া না করিয়া শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে) তাহার প্রতিদ্বন্দ্বির কাছে গিয়া সন্ধি করিয়া ঝগড়া মিটাইয়া লইল (যদি তাহার ক্ষমা প্রার্থনা করিতে হয় তাহাও করিয়া লইল)।

অথবা কোন ব্যক্তি, কোন কারণে খুব ক্রোধান্বিত হইল। ক্রোধ মোতাবেক তাহার কাজ করিবার শক্তি থাকা সত্বেও সে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ করিল (ইহাই শক্তি পরীক্ষার প্রকৃত স্হান) ।

Posted in Uncategorized | Leave a comment

Being afflicted with sickness

হযরত আবু হোরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ছঃ) একটি হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা’আলার এই বক্তব্য উলেখ করিয়াছেন,

“আমি যখন মোমেন বান্দাকে (কোন প্রকার রোগে) আক্রান্ত করি,তারপর যাহারা তাহাকে দেখিতে যায় তাহাদের নিকট সে কোন অভিযোগ করে না, তখন আমি তাহাকে আমার নিকট বন্দিত্ব হইতে মুক্ত করি । অর্থাৎ তাহার পাপ মার্জনা করিয়া দেওয়া হয় । তারপর তাহাকে তাহার গোশত হইতে উত্তম গোশত এবং তাহার রক্ত হইতে উত্তম রক্ত দান বহুরি (তাহাকে সুস্থতা দান করি) । তারপর সে ব্যক্তি পুনরায় নূতনভাবে আমল শুরু করে (অতীতের সকল পাপ মাফ হইয়া যায়) ।

(মোস্তাদরাকে হাকেম)

Posted in Uncategorized | Leave a comment

Returning Goods after Purchase

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলিয়াছেন,

কোন ব্যক্তি যদি মুসলমানের বিক্রয় করা অথবা ক্রয় করা জিনিস ফিরাইয়া লইতে রাজি হয়, আল্লাহ  তায়ালা তাহার দোষত্রুটি ক্ষমা করিয়া দেন ।

(আবু দাউদ)

Posted in Uncategorized | Leave a comment

Visiting Sick

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূল (সাঃ) কে আমি একথা বলিতে শুনিয়াছি,

কেহ যদি অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখিতে গমন করে তবে সে রহমতের মধ্যে ডুবিয়া থাকে । অসুস্থ ব্যক্তির নিকট বসার পর রহমত তাহাকে ঢাকিয়া ফেলে ।

হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, আমি বলিলাম, হে রাসুল (সাঃ)! আপনি তো অসুস্থকে দেখিতে যাওয়া ব্যক্তির জন্য এই সওয়াবের কথা বলিয়াছেন ।প্রশ্ন হইতেছে, অসুস্থ ব্যক্তি কি পায়?

রাসুল (সাঃ) বলিলেন, তাহার পাপ সাফ করিয়া দেওয়া হয় ।

(মোসনাদে আহমদ)

Posted in Uncategorized | Leave a comment